গল্পঃ অপূর্ণতা
লেখকঃ সাইফুল ইসলাম সাহি
দিনটি ছিল রবিবার ২০১৫ সালের ০৫ ই জানুয়ারি। সকালে হাঁটতে ছিলাম, সময় তখন ০৯:১৭ মিনিট।হঠাৎ দেখি আমার পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল একটি মেয়ে। তবে মেয়েটি কিন্তু অনেক জোরে হাঁটিতেছিল দেখে মনে হলো ওর পিছনে বাঘ তাড়া করছিল।ওকে দেখে অবাক হলাম আর মনে মনে হাসতেছি, কারন একটা মেয়ে এই ভাবে হাঁটতে পারে জীবনে প্রথম দেখলাম।
এই ভাবে এক সপ্তাহ পযন্ত মেয়েটিকে দেখি রোজ এই ভাবে হাঁটতে হাঁটতে কোচিং এ যায়। একদিন মেয়েটি কে জিজ্ঞেস করলাম, আচ্ছা আপনি প্রতি দিন এই ভাবে কেন হাঁটেন। হঠাৎ মেয়েটি রাগান্বিত চোখে আমার দিকে তাকালো, আর কিছুই না বলে চলে গেল। ওর তাকানো দেখে আমি পুরোই ভয় পেয়ে যায়। জীবনে প্রথম কেউ এই ভাবে আমার দিখে তাকালো। এই ভাবে আরো চার দিন চলে যায়।একদিন খেয়াল করলাম মেয়েটি আমার দিখে তাকিয়ে আছে। মেয়েটিকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম আপনি এই ভাবে তাকিয়ে আছেন কেন আমার দিকে। তখন মেয়েটি বলে উঠল, কি ভাবে জানলেন আমি আপনার দিকে তাকিয়ে আছি? তখন আমি লজ্জা পেলাম, তখন মেয়েটি বলে উঠল আমি বৈশাখী। আপনার নাম কী? আমি হা করে তাকিয়ে আছি মেয়েটির দিকে, মেয়েটি বলল! এইযে এই ভাবে কি তাকিয়ে আছেন।আমি বললাম না কিছু না, সে বলল নাম কি, আমি তুতলা কন্ঠে বলে উঠলাম সাহি। এরপর মেয়েটি চলে যায় কিছু না বলেই।আমি ওই দিন সারা রাত শুধু ওই মেয়েটির কথা ভাবতে তাকি। সকালে বাহির হলাম কিন্তু মেয়েটিকে দেখি নাই আজ। আমি একজন Middle age family সন্তান তাই নিজের সময়ের মূল্য নিজেকে দিতে হয়।কিন্তু প্রতি দিন মেয়েটিকে দেখের জন্য রাস্তায় অপেক্ষা করি, কেন অপেক্ষা করি তা আমিও জানি না, হয়তো বা বৈশাখী নামের মেয়েটিকে আমি পছন্দ করে পলেছি। কিন্তু বলার সাহস নাই, কারন গরিবের ছেলে। একদিন বিকালে নামাজ পরতে যাচ্ছিলাম হঠাৎ বৈশাখীর সামনে পরে যায়। আমাকে জিজ্ঞেস করে কেমন আছেন। আমি উওরে বললাম ভালো অপনি, সে বলল ভালো। কোথায় যাচ্ছেন। আমি বললাম নামাজ পড়তে। এই ভাবে প্রায় দেড় মাস রাস্তায় কথা হয় ওর সাথে। ওর চাওয়া পাওয়া সব কিছু মিলে যায় আমার সাথে। আজ ওর সাথে আমার পরিচয় দুই মাস। তবে এখনো কেউ কাউকে বলতে পারি নি যে একজন আরেক জনকে পছন্দ করি যে ওটা। একদিন সে আমার কাছ থেকে মোবাইল নাম্বার খোঁজে।
কিন্তু আমি মোবাইল ব্যবহার করতাম যে ১২০০ মডেল এর মোবাইল। মোবাইল টা আব্বু দিয়েছিল ৮ম শ্রেণিতে, আজ তিন বছর হয়েছে মোবাইল এর বয়স।বৈশাখী মোবাইল টা হতে নিয়ে বলল, মোবাইল টা অনেক পূরানো কিন্তু তোমার মতো কিউট। ও নাম্বারটা নে আমার আর রাতে কল করে। আমি ভয় পেয়ে যায় কারণ আব্বু-আম্মু বাসায় ছিল। একটা বাহানা বানিয়ে বাহিরে চলে যায়। তখন ওই দিক থেকে বলে উঠলো কেমন আছেন আমি বললাম ভালো তুমি সে বলল ভালো এই ভাবে কথা চলতে থাকে আমাদের দুজনের মধ্যে। আজ আমাদের ভালোবাসা দুই বছর ও এখন এইচ.এস.সি. পরিক্ষা দিছে আর আমি চট্টগ্রাম ভার্সিটিতে অর্নাস প্রথম বর্ষে ছাত্র। প্রতি দিন এর মতো আজও কথা হচ্ছিল দুই জনের মধ্যে হঠাৎ একটা কন্ঠ শুনতে পাই কল কেটে যায়। আমি কিছুই বুঝতে পারি নাই কি হল ওখানে।এই ভাবে আট দিন হয়ে যায় কল আসে না ওর। নবম দিন একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে কল আসে। কল রিসিভ করতেই বলে উঠলো আমি বৈশাখী বাবা আমাদের ব্যপারে সব কিছু জেনে গেছে। তাই উনি আমার বিয়ে ঠিক করে পেলেছে।
ুএই দিকে আমার নিশ্বাসটা তমকে যায়, দুচোখ থেকে পানি পরতেছে।বৈশাখী বলতে লাগলো আর আমি শুনতেছি, আমার বিয়ে এই মাসের পনেরো তারিখ, এটা শুনে আমি চারিদিকে ঝাপসা দেখতে তাকি।ও বলতেছে আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না। যদি তোমাকে আমি না পাই তাহলে আমি এই জীবন রাখব না এই বলে কল কেটে দেয়। আমি কি করব কিছুই বুঝতে পারতেসি না কারণ আজ সাত তারিখ পনেরো তারিখ ওর বিয়ে। সারা রাত ঘুমাতে পারিনি আর চোখের পানিতে বালিশটা বিজে গেছে।সত্যি বলতে এই ভাবে ওর জন্য কোন দিন কাঁদিনি আমি আজকেই প্রথম এই ভাবে কাঁদলাম । সকলে উঠেই গ্রামের বাড়িতে রওনা দিলাম। গ্রামে ঢুকতে মনে হলো সব কিছু অপরিচিত, অচেনা-অজানা কিন্তু এক সময় এই গ্রামটাই ছিল কতো পরিচিত। বিকালে রাহি কে নিয়ে বৈশাখী গ্রামের দিকে গেলাম ওর বড় ভাই কে দেখতে পায়। কিন্তু উনি আমাকে খেয়াল করছে কিনা তা জানি না।একট দোকানে বসে নাস্তা করে চলে আসলাম। রাতে ও কল দিয়ে দেখা করতে বলে।রাত ১১:০০ টায় ওর সাথে দেখা করলাম। ওর সাথে কথা বলতেছিলাম ওর বাড়ির পিছনে হঠাৎ ওর বাবা আর বড় ভাই কিছু লোকজন নিয়ে আসে। কিন্তু আমি আর বৈশাখী কিছুই বুঝে উঠার আগেই ওর বাবা ওকে একটা থাপড় দিয়ে হাত ধরে টেনে নিয়ে যায়। কিছু বলার আগেই ওর বড় ভাই আর লোকজন মিলে আমকে মারতে শুরু করে।এরপর ওর বড় ভাই আমাকে হুমকি দিয়ে বলে আরেক বার যদি আমার বোনের সাথে দেখি তা হলে তোকে মেরেই ফেলবো। এটা বলে উনারা চলে যায় আর আমি রাহি কে কল করে বলি কী কী ঘটে গেছে তা।কিছুক্ষণ এর মধ্যে আমার চার দিকটা অন্ধকার হয়ে যায় আর আমি মাতা ঘুরে পড়ে যায় এরপর কি হয়েছে আমি আর কিছুই জানতে পরি না।সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখি আমি বিছানায় শুয়ে আছি।মাতায় ব্যান্ডেজ পাশে দেখতে পাই রাহি কে। তখন আমি রাহির বাড়িতে। এরপর আর বৈশাখীর কোন কল আসে না। কি করব আমি কিছুই বুঝতে পারতেসি না। কিছুই করার ছিলনা আমার কারণ ও হচ্ছে বড় লোকের মেয়ে আর আমি গরিবের ছেলে। আর একজন পিতা-মাতা কখনো চাইবে না তার মেয়েকে একটা বেকার ছেলের হাতে তুলে দিতে।আজ ১৩ তারিখ ও আমাকে কল করে পালিয়ে যাওয়ার জন্য বলে।কিন্তু আমি একটা বেকার ছেলে তাই ওকে নিয়ে কোথায় যাবো কিছুই মাথায় আসতেছে না।ওই দিন সারা রাত ভাবতেছিলাম হঠাৎ, মনে হলো আমার ও তো একটা পরিবার আছে, আর আমি তো বড় ছেলে এখন যদি বাবার কিছু হয়ে যায় তাহলে তো আমার পরিবার রাস্তায়। কারণ মায়ের শেষ আশা আমি।সকালে বৈশাখী কল করে বলে রাতে ৮ টার দিকে ওর জন্য স্টেশন মোড়ে অপেক্ষা করার জন্য কিন্তু আমি না করে দিয়।কারণ ওকে নিয়ে যদি এখন আমি পালিয়ে যায় তাহলে ওর সব থেকে কষ্টে থাকতে হবে আর ওর বাবার ঠিক করা জামাই একজন নাম করা ব্যবসায়ি।তাই উনি উকে আমার থেকে আরও বেশি খুশিতে রাখতে পারবে।তখন বৈশাখী অভিমান করে বলে ঠিক আছে তাহলে আমি আমার বাবার ঠিক করা ছেলেকেই বিয়ে করবো,কিন্তু আমার মন থেকে কোন দিন তোমাকে ভুলতে পারবোনা এই বলে কান্না করতে করতে কল কেটে দেয়। এই দিকে কষ্টে আমার বুকটা পটে যাচ্ছে। চোখ থেকে পানি জরতেছে। বিয়ের দিন সে আমাকে আবার কল করে এখনো সময় আছে Please চলো না পালিয়ে যায়। এই কথা শুনে আমার চোখ থেকে পানি চলে আসে, কিছু না বলেই কলটি কেটে দি। প্রচুর পরিমানে কান্না করতে থাকি,জানিনা হঠাৎ করে কেন এমন হয়ে গেলাম আমি,যার জন্য পাগল ছিলাম, যাকে ছাড়া বাঁচে থাকা অসম্ভব তাকেই পিরিয়ে দিচ্ছি। সে আজ অন্যের বাসরে থাকবে আর আমি নেশার ঘরে। দু'জনে স্বপ্ন, ইচ্ছা, আকাঙ্খা সব কিছু একটি মূহুর্তের মধ্যে সব কিছু ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। আসলেই আমি খুব বড় স্বার্থপর নিজের স্বাথের জন্য ভালোবসাটাকে বলিদান দিলাম। কিন্তু কখনো তাকে ভুলতে পারবো না।তার সব স্মৃতি সারাজীবন আঁকড়ে ধরে বেচেঁ থাকবো।
লেখকঃ সাইফুল ইসলাম সাহি
দিনটি ছিল রবিবার ২০১৫ সালের ০৫ ই জানুয়ারি। সকালে হাঁটতে ছিলাম, সময় তখন ০৯:১৭ মিনিট।হঠাৎ দেখি আমার পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল একটি মেয়ে। তবে মেয়েটি কিন্তু অনেক জোরে হাঁটিতেছিল দেখে মনে হলো ওর পিছনে বাঘ তাড়া করছিল।ওকে দেখে অবাক হলাম আর মনে মনে হাসতেছি, কারন একটা মেয়ে এই ভাবে হাঁটতে পারে জীবনে প্রথম দেখলাম।
এই ভাবে এক সপ্তাহ পযন্ত মেয়েটিকে দেখি রোজ এই ভাবে হাঁটতে হাঁটতে কোচিং এ যায়। একদিন মেয়েটি কে জিজ্ঞেস করলাম, আচ্ছা আপনি প্রতি দিন এই ভাবে কেন হাঁটেন। হঠাৎ মেয়েটি রাগান্বিত চোখে আমার দিকে তাকালো, আর কিছুই না বলে চলে গেল। ওর তাকানো দেখে আমি পুরোই ভয় পেয়ে যায়। জীবনে প্রথম কেউ এই ভাবে আমার দিখে তাকালো। এই ভাবে আরো চার দিন চলে যায়।একদিন খেয়াল করলাম মেয়েটি আমার দিখে তাকিয়ে আছে। মেয়েটিকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম আপনি এই ভাবে তাকিয়ে আছেন কেন আমার দিকে। তখন মেয়েটি বলে উঠল, কি ভাবে জানলেন আমি আপনার দিকে তাকিয়ে আছি? তখন আমি লজ্জা পেলাম, তখন মেয়েটি বলে উঠল আমি বৈশাখী। আপনার নাম কী? আমি হা করে তাকিয়ে আছি মেয়েটির দিকে, মেয়েটি বলল! এইযে এই ভাবে কি তাকিয়ে আছেন।আমি বললাম না কিছু না, সে বলল নাম কি, আমি তুতলা কন্ঠে বলে উঠলাম সাহি। এরপর মেয়েটি চলে যায় কিছু না বলেই।আমি ওই দিন সারা রাত শুধু ওই মেয়েটির কথা ভাবতে তাকি। সকালে বাহির হলাম কিন্তু মেয়েটিকে দেখি নাই আজ। আমি একজন Middle age family সন্তান তাই নিজের সময়ের মূল্য নিজেকে দিতে হয়।কিন্তু প্রতি দিন মেয়েটিকে দেখের জন্য রাস্তায় অপেক্ষা করি, কেন অপেক্ষা করি তা আমিও জানি না, হয়তো বা বৈশাখী নামের মেয়েটিকে আমি পছন্দ করে পলেছি। কিন্তু বলার সাহস নাই, কারন গরিবের ছেলে। একদিন বিকালে নামাজ পরতে যাচ্ছিলাম হঠাৎ বৈশাখীর সামনে পরে যায়। আমাকে জিজ্ঞেস করে কেমন আছেন। আমি উওরে বললাম ভালো অপনি, সে বলল ভালো। কোথায় যাচ্ছেন। আমি বললাম নামাজ পড়তে। এই ভাবে প্রায় দেড় মাস রাস্তায় কথা হয় ওর সাথে। ওর চাওয়া পাওয়া সব কিছু মিলে যায় আমার সাথে। আজ ওর সাথে আমার পরিচয় দুই মাস। তবে এখনো কেউ কাউকে বলতে পারি নি যে একজন আরেক জনকে পছন্দ করি যে ওটা। একদিন সে আমার কাছ থেকে মোবাইল নাম্বার খোঁজে।
কিন্তু আমি মোবাইল ব্যবহার করতাম যে ১২০০ মডেল এর মোবাইল। মোবাইল টা আব্বু দিয়েছিল ৮ম শ্রেণিতে, আজ তিন বছর হয়েছে মোবাইল এর বয়স।বৈশাখী মোবাইল টা হতে নিয়ে বলল, মোবাইল টা অনেক পূরানো কিন্তু তোমার মতো কিউট। ও নাম্বারটা নে আমার আর রাতে কল করে। আমি ভয় পেয়ে যায় কারণ আব্বু-আম্মু বাসায় ছিল। একটা বাহানা বানিয়ে বাহিরে চলে যায়। তখন ওই দিক থেকে বলে উঠলো কেমন আছেন আমি বললাম ভালো তুমি সে বলল ভালো এই ভাবে কথা চলতে থাকে আমাদের দুজনের মধ্যে। আজ আমাদের ভালোবাসা দুই বছর ও এখন এইচ.এস.সি. পরিক্ষা দিছে আর আমি চট্টগ্রাম ভার্সিটিতে অর্নাস প্রথম বর্ষে ছাত্র। প্রতি দিন এর মতো আজও কথা হচ্ছিল দুই জনের মধ্যে হঠাৎ একটা কন্ঠ শুনতে পাই কল কেটে যায়। আমি কিছুই বুঝতে পারি নাই কি হল ওখানে।এই ভাবে আট দিন হয়ে যায় কল আসে না ওর। নবম দিন একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে কল আসে। কল রিসিভ করতেই বলে উঠলো আমি বৈশাখী বাবা আমাদের ব্যপারে সব কিছু জেনে গেছে। তাই উনি আমার বিয়ে ঠিক করে পেলেছে।
ুএই দিকে আমার নিশ্বাসটা তমকে যায়, দুচোখ থেকে পানি পরতেছে।বৈশাখী বলতে লাগলো আর আমি শুনতেছি, আমার বিয়ে এই মাসের পনেরো তারিখ, এটা শুনে আমি চারিদিকে ঝাপসা দেখতে তাকি।ও বলতেছে আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না। যদি তোমাকে আমি না পাই তাহলে আমি এই জীবন রাখব না এই বলে কল কেটে দেয়। আমি কি করব কিছুই বুঝতে পারতেসি না কারণ আজ সাত তারিখ পনেরো তারিখ ওর বিয়ে। সারা রাত ঘুমাতে পারিনি আর চোখের পানিতে বালিশটা বিজে গেছে।সত্যি বলতে এই ভাবে ওর জন্য কোন দিন কাঁদিনি আমি আজকেই প্রথম এই ভাবে কাঁদলাম । সকলে উঠেই গ্রামের বাড়িতে রওনা দিলাম। গ্রামে ঢুকতে মনে হলো সব কিছু অপরিচিত, অচেনা-অজানা কিন্তু এক সময় এই গ্রামটাই ছিল কতো পরিচিত। বিকালে রাহি কে নিয়ে বৈশাখী গ্রামের দিকে গেলাম ওর বড় ভাই কে দেখতে পায়। কিন্তু উনি আমাকে খেয়াল করছে কিনা তা জানি না।একট দোকানে বসে নাস্তা করে চলে আসলাম। রাতে ও কল দিয়ে দেখা করতে বলে।রাত ১১:০০ টায় ওর সাথে দেখা করলাম। ওর সাথে কথা বলতেছিলাম ওর বাড়ির পিছনে হঠাৎ ওর বাবা আর বড় ভাই কিছু লোকজন নিয়ে আসে। কিন্তু আমি আর বৈশাখী কিছুই বুঝে উঠার আগেই ওর বাবা ওকে একটা থাপড় দিয়ে হাত ধরে টেনে নিয়ে যায়। কিছু বলার আগেই ওর বড় ভাই আর লোকজন মিলে আমকে মারতে শুরু করে।এরপর ওর বড় ভাই আমাকে হুমকি দিয়ে বলে আরেক বার যদি আমার বোনের সাথে দেখি তা হলে তোকে মেরেই ফেলবো। এটা বলে উনারা চলে যায় আর আমি রাহি কে কল করে বলি কী কী ঘটে গেছে তা।কিছুক্ষণ এর মধ্যে আমার চার দিকটা অন্ধকার হয়ে যায় আর আমি মাতা ঘুরে পড়ে যায় এরপর কি হয়েছে আমি আর কিছুই জানতে পরি না।সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখি আমি বিছানায় শুয়ে আছি।মাতায় ব্যান্ডেজ পাশে দেখতে পাই রাহি কে। তখন আমি রাহির বাড়িতে। এরপর আর বৈশাখীর কোন কল আসে না। কি করব আমি কিছুই বুঝতে পারতেসি না। কিছুই করার ছিলনা আমার কারণ ও হচ্ছে বড় লোকের মেয়ে আর আমি গরিবের ছেলে। আর একজন পিতা-মাতা কখনো চাইবে না তার মেয়েকে একটা বেকার ছেলের হাতে তুলে দিতে।আজ ১৩ তারিখ ও আমাকে কল করে পালিয়ে যাওয়ার জন্য বলে।কিন্তু আমি একটা বেকার ছেলে তাই ওকে নিয়ে কোথায় যাবো কিছুই মাথায় আসতেছে না।ওই দিন সারা রাত ভাবতেছিলাম হঠাৎ, মনে হলো আমার ও তো একটা পরিবার আছে, আর আমি তো বড় ছেলে এখন যদি বাবার কিছু হয়ে যায় তাহলে তো আমার পরিবার রাস্তায়। কারণ মায়ের শেষ আশা আমি।সকালে বৈশাখী কল করে বলে রাতে ৮ টার দিকে ওর জন্য স্টেশন মোড়ে অপেক্ষা করার জন্য কিন্তু আমি না করে দিয়।কারণ ওকে নিয়ে যদি এখন আমি পালিয়ে যায় তাহলে ওর সব থেকে কষ্টে থাকতে হবে আর ওর বাবার ঠিক করা জামাই একজন নাম করা ব্যবসায়ি।তাই উনি উকে আমার থেকে আরও বেশি খুশিতে রাখতে পারবে।তখন বৈশাখী অভিমান করে বলে ঠিক আছে তাহলে আমি আমার বাবার ঠিক করা ছেলেকেই বিয়ে করবো,কিন্তু আমার মন থেকে কোন দিন তোমাকে ভুলতে পারবোনা এই বলে কান্না করতে করতে কল কেটে দেয়। এই দিকে কষ্টে আমার বুকটা পটে যাচ্ছে। চোখ থেকে পানি জরতেছে। বিয়ের দিন সে আমাকে আবার কল করে এখনো সময় আছে Please চলো না পালিয়ে যায়। এই কথা শুনে আমার চোখ থেকে পানি চলে আসে, কিছু না বলেই কলটি কেটে দি। প্রচুর পরিমানে কান্না করতে থাকি,জানিনা হঠাৎ করে কেন এমন হয়ে গেলাম আমি,যার জন্য পাগল ছিলাম, যাকে ছাড়া বাঁচে থাকা অসম্ভব তাকেই পিরিয়ে দিচ্ছি। সে আজ অন্যের বাসরে থাকবে আর আমি নেশার ঘরে। দু'জনে স্বপ্ন, ইচ্ছা, আকাঙ্খা সব কিছু একটি মূহুর্তের মধ্যে সব কিছু ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। আসলেই আমি খুব বড় স্বার্থপর নিজের স্বাথের জন্য ভালোবসাটাকে বলিদান দিলাম। কিন্তু কখনো তাকে ভুলতে পারবো না।তার সব স্মৃতি সারাজীবন আঁকড়ে ধরে বেচেঁ থাকবো।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you for feedback