বাংলাদেশে জ্বালানি তেলে সালফারের মাত্রা: বাস্তব চিত্র ও ভয়াবহ প্রভাব
বর্তমানে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের গুণগত মান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গেছে, দেশের অনেক এলাকায় বিক্রি হওয়া জ্বালানি তেলে সালফারের মাত্রা নির্ধারিত সীমার অনেক বেশি। এতে শুধু যানবাহনের ইঞ্জিনই নয়, পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।জ্বালানি তেলে সালফার কী এবং কেন এটি ক্ষতিকরসালফার একটি প্রাকৃতিক উপাদান, যা অপরিশোধিত তেলে থাকে। পরিশোধনের মাধ্যমে এর মাত্রা কমানো হয়। কিন্তু সালফারের পরিমাণ বেশি হলে তা জ্বালানির মান কমিয়ে দেয় এবং দহনের সময় ক্ষতিকর গ্যাস তৈরি করে।
অতিরিক্ত সালফারযুক্ত তেল ব্যবহার করলে—
- ইঞ্জিনের ভেতরে দ্রুত কার্বন জমে
- ইঞ্জিনের আয়ু কমে যায়
- ধোঁয়া ও দূষণ বেড়ে যায়
- শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি বাড়ে
বাংলাদেশে সালফারের অনুমোদিত মাত্রা কত
বর্তমানে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলে সালফারের সর্বোচ্চ অনুমোদিত মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫০ পিপিএম। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় মূলত কম দামে জ্বালানি আমদানির সুবিধা তৈরি করার জন্য।
কিন্তু সাম্প্রতিক পরীক্ষায় দেখা গেছে—
কোথাও কোথাও সালফারের মাত্রা ২৮০০ পিপিএম পর্যন্ত পাওয়া গেছে
যা নির্ধারিত সীমার প্রায় ৮ গুণ বেশি
এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয়।
আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে বাংলাদেশের পার্থক্য
বিশ্বের উন্নত দেশগুলো বহু আগেই জ্বালানি তেলে সালফারের মাত্রা কমিয়ে এনেছে।
ইউরোপে অনুমোদিত মাত্রা: ১০ পিপিএম
ভারতে বর্তমানে চালু রয়েছে: ১০ পিপিএম
বাংলাদেশে অনুমোদিত: ৩৫০ পিপিএম
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩৫০ পিপিএমও পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ নয়।
মোটরসাইকেল ও গাড়ির ইঞ্জিনে অতিরিক্ত সালফারযুক্ত তেল ব্যবহারের ফলে—
- মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন দ্রুত গরম হয়
- ইঞ্জিন অয়েল দ্রুত নষ্ট হয়
- পিক-আপ ও মাইলেজ কমে যায়
- ইঞ্জিনের ভেতরের যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়
- এই কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে গাড়ি ও মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে নিয়মিত অভিযোগ আসছে।
- পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের উপর ক্ষতিকর প্রভাব
- সালফার বেশি থাকলে দহনকালে সালফার ডাই অক্সাইড গ্যাস তৈরি হয়, যা—
- বাতাস দূষিত করে
- এসিড বৃষ্টি ঘটাতে পারে
- শিশু ও বয়স্কদের শ্বাসকষ্ট বাড়ায়
- দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়
বিশেষজ্ঞদের মতামত
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মান আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা জরুরি। শুধু অনুমোদিত মাত্রা নির্ধারণ করলেই হবে না, নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে তা নিশ্চিত করতে হবে।
সরকারের এখন কি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন?
সালফারের মাত্রা ধাপে ধাপে ১০ পিপিএমে নামিয়ে আনা
নিয়মিত ও স্বচ্ছ মান নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষা
নিম্নমানের তেল বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
জনগণকে সচেতন করা

1 মন্তব্যসমূহ
AH
উত্তরমুছুনThank you for feedback